কোন কাজকে হাসান তথা ভালো করার জন্য ‘আল্লাহর জন্য নিয়তকে আন্তরিকভাবে বিশুদ্ধ করা এবং কাজটি শরীয়াহ তথা ইসলামী আইন এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। এই কারণে, শুরুর দিককার আলেমগণ (তাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) এই মৌলিক নীতিগুলোকে একত্র করে চিন্তা করতেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন:
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদের যাচাই করতে যে তোমাদের মধ্যে কে কাজকর্মে শ্রেষ্ঠ। [সূরাতুল মুলক ৬৭:২]
এই আয়াত সম্পর্কে আল-ফুদাইল বিন ‘ইয়াদ বলেন, এর অর্থ হল: أَخْلَصُهُ (তথা সর্বাধিক আন্তরিক) এবং أَصْوَبُهُ (তথা সর্বাধিক সঠিক)। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘أَخْلَصُهُ এবং أَصْوَبُهُ বলতে কী বোঝায়?’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: ‘যদি কর্মটি সঠিক হয় কিন্তু আন্তরিক না হয় তবে তা গৃহীত হয় না এবং যদি আন্তরিক হয় কিন্তু সঠিক না হয় তবে তা গৃহীত হবে না। যতক্ষণ না এটি আন্তরিক এবং সঠিক হয়, আন্তরিক হয় কারণ এটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য এবং সঠিক হয় কারণ এটি সুন্নাতের উপর নির্ভর করে’।
সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘কথা গ্রহণযোগ্য নয় যদি না কর্ম থাকে, (অন্যদিকে) নিয়তের অনুপস্থিতিতে বক্তব্য এবং কাজ গ্রহণযোগ্য হয় না, (আবার) বক্তব্য, কর্ম এবং নিয়ত গ্রহণযোগ্য নয় যদি না এ সবই সুন্নাহর সাথে একমত হয়’।
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দু’আ করতেন: ‘হে আল্লাহ, আমার প্রতিটি কাজকে সালিহ (তথা সঠিক) করে দাও, এবং তা সম্পূর্ণরূপে তোমার জন্য করে দাও এবং এর কোন অংশই যেন তোমার জন্য ছাড়া না হয়’।
ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘সুন্নাহ (তথা সঠিক পন্থায় ইসলাম অনুসরণ করা) হলো নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর নৌকা। যে এতে আরোহণ করল সে রক্ষা পেল এবং যে এ থেকে বিরত রইল সে ডুবে গেল’।
দা’ওয়াহ বাহক তার কর্মের নিখুঁততা এবং দা’ওয়াহর মাধ্যমে যাতে তার কোন পার্থিব লাভের সন্ধান না হয় সে ব্যপারটি নিশ্চিত করার জন্য সে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেয় এবং সতর্কতার সাথে নিজেকে পাহারা দেয়। যদি সে তা না করে, তাহলে তার কর্মের কোন মূল্য থাকবে না এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন হবে।
হাদিসে এসেছে:
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করে যাতে সে জ্ঞানীদের সাথে প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক করতে পারে, মূর্খদের সাথে তর্ক করতে পারে এবং মানুষকে তার ব্যক্তিত্বের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। (তিরমিযী, ইবনে হিব্বান প্রমুখ হতে বর্ণিত, এর ইসনাদে দুর্বলতা রয়েছে, তবে অর্থের বিবেচনায় এ বর্ণনা সঠিক)।
কর্মের পরিমাণের উপর নয়, কর্মকে নিখুঁত করার উপর মনোযোগ দিতে হবে। আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেছেন,
لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে কে কর্মে সর্বোত্তম [সূরাতুল মুলক ৬৭:২]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) বলেননি: তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি আমল করে তা দেখার জন্য। ইহসান অর্থ কোনো কাজকে সবচেয়ে উত্তমভাবে আদায় করা।
মালিক বিন দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘যারা (কাজে) সাদিক (সত্যবাদী/আন্তরিক) নয় তাদেরকে বলো, নিজেকে ক্লান্ত করো না!’ একবার আবু উমামাহ যখন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি সাজদাহ করছিলেন, তিনি বললেন: ‘কী চমৎকার সাজদাহ, যদি এটা তোমার ঘরেই করা হত’ এবং ফুদাইল বিন ইয়াদ বলেন: ‘এই ঘর (তথা কা’বা) কতবার তাওয়াফ করা হয়েছে অথচ অন্য একজন ব্যক্তি ‘দূরে অবস্থিত’ আছে যার কাছে তার (তথা এই তাওয়াফকারীর) চেয়ে অনেক বেশি সওয়াব রয়েছে?
এই সকল কারণে, সকল কাজ করার সময় বিশুদ্ধ আন্তরিকতা (তথা ইখলাস) এবং ‘সর্বোত্তম নিয়ত’ পালন করা বাধ্যতামূলক। কারণ, কর্মের বৈধতা এবং বিশ্বজগতের রব (সুবহানাহু ওয়া তায়ালার) কাছে তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়তের উপর নির্ভর করে। হাদিসের এসেছে:
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
আমলসমূহ কেবল নিয়তের উপর নির্ভর করে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই (অর্জন করবে) যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা নারীকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্যই বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)
অর্থাৎ, নিজের কোনো আশা-আকাংখাকে ইসলামের লেবাসের মোড়কে মুড়িয়ে অর্জন করতে গেলে ইসলাম আর অর্জন হবে না, এতটুকু নিশ্চিত। ব্যবসা, বিয়ে-শাদি, বীরত্ব, ইসলামী জ্ঞান যাহির এসব কিছুই হালাল, কিন্তু ব্যক্তির অন্তরে এসব অর্জনের কারণ আসলে কি আল্লাহর সন্তুষ্টি নাকি এর পার্থিব মূল্য। এটা অদ্ভুত কিছু নয় যে, আলেমগণ এই হাদিসটিকে ইসলামের মধ্যে আবর্তিত এক-তৃতীয়াংশ হাদীসের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে বিবেচনা করতেন। সালাফদের মধ্যে প্রাচীনতম আলেমগণ দ্বীনের বিষয় থেকে উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়ে এই হাদিসটিকে প্রথমে এবং অগ্রভাগে স্থান দিতে পছন্দ করতেন, কারণ এটি সকল ধরণের বিষয়ের উপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য।
তাদের দৃষ্টিতে ইখলাস বলতে বান্দাদের কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্য হোক বা গোপনে, একই রকম করে তোলা বোঝানো হয়েছে। ইমাম আল-হারিছ আল-মাহাসাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘সাদিক (তথা সত্যবাদী আন্তরিক ব্যক্তি) যদি নিজের হৃদয় সংশোধনের জন্য সৃষ্টির হৃদয় থেকে সমস্ত প্রশংসা হারিয়ে ফেলে, তাতে তার আপত্তি নেই। সে তার ভালো কাজ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে পছন্দ করে না, আর মানুষ তার খারাপ কাজ সম্পর্কে জানতে পারে তা ঘৃণা করে না।’
ইমাম আল-কুশাইরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘আল-ইখলাস তার নিয়তের মাধ্যমে আল-হাক্ক (তথা আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তা’আলার আনুগত্যকে এককভাবে তুলে ধরে। এবং এভাবে তার আনুগত্যের মাধ্যমে সে কেবল আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চায়, অন্য কিছু নয়, সেক্ষেত্রে তার নিয়তের লক্ষ্য সৃষ্টির দিকেই হোক যাতে সে মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হয় অথবা সৃষ্টির কাছ থেকে ভালোবাসা ও প্রশংসা অর্জন করা হোক, অথবা অন্য যেকোনো দিক যা কেবল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষ্যে বাইরে পরিচালিত হয় (তা সে পরিহার করে)।
হাসান বিন আর-রাবী (রাহিমাহুল্লাহ) সম্মানিত ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাহিমাহুল্লাহ)’র জিহাদ সম্পর্কে বলেন: ‘মুসলিমদের মধ্য থেকে একজন মুখোশধারী সওয়ার যুদ্ধে বের হয়ে শত্রুদের মধ্য থেকে একজন সওয়ারকে হত্যা করে, যারা মুসলিমদের সাথে লড়াই করছিল। মুসলিমরা তখন তাকবীর (তথা আল্লাহু আকবর) বলল এবং সে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করল এবং কেউ জানল না যে সে কে। আমি তার পিছনে পিছনে গেলাম যতক্ষণ না তাকে বললাম যে আল্লাহর কসম, সে যেন তার মুখোশ খুলে ফেলে। এরপর আমি তাকে চিনতে পারলাম এবং বললাম: ‘আল্লাহ তোমার হাতে এত বড় বিজয় সহজ করে দিয়েছেন, তবুও তুমি কি নিজেকে লুকিয়ে রাখছো?’ তিনি উত্তর দিলেন: ‘যার জন্য আমি এটা করেছি, তার কাছ থেকে কিছুই গোপন নেই’।
ইবনে কুতাইবা তার ‘উয়ুন আল-আখবার’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘মাসলামা বিন আব্দুল মালিক একটি দুর্গ অবরোধ করেছিলেন এবং এই দুর্গের দেয়ালে কিছু গর্ত ছিল। তাই লোকেরা চাইছিল কেউ যেন এর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে, কিন্তু কেউ তা করছিল না। তারপর সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে একজন (অজানা) ব্যক্তি এসে তার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে এবং তারপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যেম দুর্গটি উন্মুক্ত করে দেন যা বিজয়ের দিকে পরিচালিত করে। মাসলামা তখন চিৎকার করে বলেন: ‘যে ব্যক্তি গর্ত দিয়ে প্রবেশ করেছিল সে কোথায়?’ যখন কেউ তার কাছে আসছিল না তখন তিনি আবার ডাকলেন এবং প্রহরীকে নির্দেশ দিলেন যে ‘লোকটিকে যে সময়ে আসবে তখন যেন তাকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়, কারণ তিনি তাঁর জন্য অপেক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। পরে একজন ব্যক্তি প্রহরীটির কাছে গিয়ে আমীর (সেনাপ্রধান)-এর সাথে দেখা করার অনুমতি চায়। প্রহরী তাকে জিজ্ঞাসা করে যে সে কি গর্তের সৈনিক এবং তিনি উত্তরে বলেন: ‘আমি তোমাদের সবাইকে বলব সে কে’। এরপর প্রহরী মাসলামার কাছে যায় এবং তাকে সেই ব্যক্তির কথা জানায় যে এসেছে। মাসলামা তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন এবং লোকটি তাকে বলল: ‘গর্তের সৈনিক তোমার কাছ থেকে তিনটি জিনিস দাবি করছে (অর্থাৎ শর্ত): তুমি তার নাম প্রচার করবে না, তাকে কিছু করার নির্দেশ দেবে না এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবে না যে সে কে অর্থাৎ কোন গোত্রের ইত্যাদি।’ মাসলামা উত্তরে বলল: সে তা করতে পারে। তখন লোকটি বলে উঠল: ‘আমিই সেই ব্যক্তি’। অর্থাৎ সে ব্যক্তি তার নিজের পরিচয় কিংবা তার বংশ বা গোত্রীয় পরিচিতির খ্যাতির আকাঙ্ক্ষী ছিল না, বরং দ্বীনের কার্য উদ্ধারের ব্যপারে চিন্তিত ছিল। তারপর এই ঘটনার পর থেকে মাসলামা এমন কোন নামাজ পড়তেন না কেবল এই বলে: ‘হে আল্লাহ, আমাকে গর্তের সৈনিকের সাথে উঠিয়ে নাও’।
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) কত সুন্দর উক্তি করেছিলেন যখন তিনি আল্লাহ তা’আলার প্রতি বিশুদ্ধ আন্তরিকতার পরিণতি সম্পর্কে কথা বলছিলেন এই বলে যে: ‘আল্লাহর তাঁর বান্দাদের প্রতি সাহায্য ও এর স্তর নিয়তের স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং যে তার নিয়ত (সঠিকভাবে) পূর্ণ করেছে তার জন্য আল্লাহর সাহায্য পূর্ণ হয়েছে। যদি সে তার নিয়তে ব্যর্থ হয়, তার জন্য আল্লাহর সাহায্যও অসম্পূর্ণ হবে’।
ইখলাসের (আন্তরিকতার) লক্ষণ ও প্রকাশের মধ্যে রয়েছে সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করা, উপদেশ গ্রহণ করা এবং এমনকি যদি তা তার কাছে নিম্ন স্তরের বা নিচু বলয়ের বলে বিবেচিত কারো কাছ থেকেও আসে, অথবা এমন কারো কাছ হতে আসে যার সাথে তার বিবাদ রয়েছে কিংবা যে তাকে আহত করেছে। সত্য অন্যদের দ্বারা তার কাছে প্রকাশিত হলেও তার বুকে কোনও টান বা সংকোচন অনুভব হয় না।
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তাহযীব আত-তাহযীব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ‘উবাইদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আনবারী’র কথা উল্লেখ করে, যিনি আল-বাসরার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, তাদের ‘উলামা ও বিচারকদের একজন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে তাঁর ছাত্র ‘আব্দুর রহমান বিন মাহদী’ বলেছেন: ‘আমরা এক জানাযায় ছিলাম এবং তাকে একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং তিনি তার উত্তরে ভুল করেছিলেন। তাই আমি বললাম: আল্লাহ আপনার ব্যাপারটি সংশোধন করুন, সঠিক উত্তর হল ‘এরকম ও এরকম’। তিনি মাথা নিচু করে বললেন: তাহলে (আমার মত হতে) ফিরে আসুন, কারণ আমি নীচু হয়ে গেছি। হকের (তথা সত্যের) উপর (অটল থেকে) লেজ হওয়া আমার কাছে বাতিলের (তথা মিথ্যার) উপর (দাড়িয়ে) মাথা হওয়ার চেয়ে বেশি প্রিয়’।
ইখলাসের আরেকটি লক্ষণ হলো ফাতওয়া বা আইনগত রায় প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত না হওয়া এবং এই কারণেই অনেক ‘সৎকর্মশীল পূর্বসূরী রায় প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন এবং চাইতেন যে সেগুলো জিজ্ঞাসা করা না হোক।
‘আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা বলেন: ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একশ বিশ জন সাহাবীর সাথে দেখা করেছি। তাদের একজনকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হত এবং তিনি প্রশ্নটি অন্যজনের কাছে পৌঁছে দিতেন, এবং তারপর তিনি তা অন্যজনের কাছে পৌঁছে দিতেন, যতক্ষণ না বিষয়টি ‘প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে আসে’।
অর্থাৎ, কোনো বৈঠকে রায় দিতে কিংবা নিজেকে ‘জিজ্ঞাসা করার’ বিষয়টি পছন্দ করার ব্যপারে তারা ভীত ছিলেন, নিজেরা যোগ্য হলেও তারা অন্যদের নিজের থেকে বেশি যোগ্য মনে করতেন।
বিশর বিন আল-হারিস (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সবচেয়ে বিশিষ্ট ‘আলেমদের একজন এবং তিনি ‘আমি জানি না’ বলতে লজ্জা বা বিব্রত বোধ করেননি। একদিন আশ-শা’বীকে একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: ‘আমি জানি না’। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে (আপনি) যখন তিনি ইরাকের জনগণের ফকীহ ছিলেন, তখন তিনি কি এই কথা বলতে লজ্জা পাননি যে (বিষয়টি আপনি) জানেন না। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: ‘কিন্তু ফেরেশতারাতো লজ্জা পাননি বা বিব্রতবোধ করেননি যখন তারা বলেছিলেন:
سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا
তুমি পবিত্র, তুমি আমাদের যা শিখিয়েছো তা ছাড়া আমাদের আর কোন জ্ঞান নেই (সূরাতুল বাকারা ২:৩২)।
তাবাকাত আশ-শাফিয়াহ-তে নিম্নলিখিত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে: আল-কাদী ‘ইজ্জউদ্দিন আল-হাকারি তাঁর একটি বইতে শেখ ‘ইজ্জউদ্দিন আব্দুস সালামের জীবনী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে শেখ ‘ইজ্জউদ্দিন একবার একটি ফাতওয়া (তথা রায়) প্রদান করেছিলেন এবং তারপরে তার রায়ের ভুল তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর তিনি মিশর ও কায়রোতে নিজের বিরুদ্ধে (জনগণকে) ডেকে বললেন: ‘যে ব্যক্তি অমুককে একটি রায় দিয়েছে, তোমরা তা অনুসারে আমল করো না, কারণ তা একটি ভুল’।
Taken from the book At-Taqarrub ilaa Allah








