শাম্মাস ইবন উসমান (রা)

নাম শাম্মাস, পিতার নাম উসমান এবং মাতার নাম সাফিয়্যাহ। কুরাইশ গোত্রের বনু মাখযুম শাখার সন্তান। হিশাম কালবী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তার প্রকৃত নাম ছিল উসমান। শাম্মাস নামকরণের কারণ এই যে, একবার জাহিলী যুগে পরম সুন্দর এক খৃস্টান পুরুষ মক্কায় আসে। তার চেহারা থেকে যেন সূর্যের কিরণ চমকাচ্ছিল। তার এ অত্যাশ্চার্য সৌন্দর্য দেখে মানুষ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ে।

হযরত শাম্মাসের মামা উতবা ইবন রাবী’য়া এ সময় দাবী করলো যে, তার কাছে এর থেকেও বেশি সূর্য কিরণ বিচ্ছুরিত হচ্ছে এমন মানুষ আছে। আর সে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হযরত শাম্মাসকে উপস্থাপন করে। সেদিন থেকে উসমান শাম্মাসে পরিণত হন। শাম্মাস অর্থ অতিরিক্ত সূর্য কিরণ বিচ্ছুরণকারী। (উসুদুল গাবা-৩/৩৭৫)। যুবাইর ইবন বাক্কার বলেন: তিনি ছিলেন মক্কার অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি। (আল ইসাবা-১/১৫৫)।

হযরত শাম্মাস ও তার মা হযরত সাফিয়্যা বিনতু রাবী’য়া প্রথম পর্বেই রাসুল সা: এর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

মুশরিকদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তিনি হাবশায় হিজরত করেন। সংগে মা সাফিয়্যাকেও নিয়ে যান। সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আবার মদীনায় হিজরাত করেন। মদীনায় হযরত মুবাশশির ইবন আল মুনজিরের অতিথি হন। হযরত হানজালা ইবন আবী আমের আল আনসারীর সাথে মুওয়াখাত বা ভাতৃ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

বদর ও উহুদ যুদ্ধে হযরত শাম্মাস বীরত্বের সাথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেন। উহুদের যুদ্ধে হঠাত করে যখন মুসলমানদের বিজয় পরাজয়ে পরিণত হয় এবং মাত্র গুটি কয়েক জীবন জীবন উতসর্গকারী মুজাহিদ ছাড়া আর সকলে ময়দান ছেড়ে দেয়, সেই চরম মুহুর্তে যে কজন রাসুলুল্লাহর সা: পাশে থেকে কাফিরদের আক্রমণ প্রতিহত করেন তাদের মধ্যে ‍শাম্মাস একজন। রাসুল সা: বলতেন: এক ঢাল ছাড়া আমি শাম্মাসের আর কোন উপমা পাই না। রাসূল সা: সেদিন ডানে বায়ে যেদিকে তাকান কেবল শাম্মাসই দৃষ্টিতে পড়েন। তিনি নিজেকে সেদিন রাসুলুল্লাহর ঢালে পরিণত করেন। তার সারাটি দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল প্রাণ স্পন্দন কোন রকম অবশিষ্ট আছে। এ অবস্থায় মদীনায় আনা হলো। হযরত উম্মু সালামাকে তার সেবার দায়িত্ব দেওয়া হল। কিন্তু তখন তার জীবনের শেষ পর্যায়। একদিন পর তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করলেন। হযরত রাসূলে কারীম সা: তার রক্তমাখা জামাকাপড়েই জানাযার নামায ছাড়াই উহুদের শহীদদের কবরস্থানে দাফন করার নির্দেশ দেন। তাকে আবার উহুদে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়। তবে ঐতিহাসিক ওয়াকেদী বলেন: তাকে মদীনার বাকী গোরস্তানে দাফন করা হয়। তিনি ছাড়া উহুদে শাহাদাত প্রাপ্ত আর কেউ বাকী গোরস্তানে সমাহিত হননি। (আল ইসাবা-২/১৫৫)।

হযরত হাসসান (রা) তার মৃত্যুতে শোক গাঁথা রচনা করেছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র চৌত্রিশ বছর।

উকাশা ইবন মিহসান (রা)

শুজা ইবন ওয়াহাব (রা)

Leave a Reply

Discover more from RETURN OF ISLAM

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading