আপনজনদের সাথে ‘স্বল্প যোগাযোগ’ বজায় রাখা: এক উপেক্ষিত সংকট

আমাদের আধুনিক বিশ্বে এটা একটা সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা সন্তানেরা প্রায়শই আমাদের বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে রাখার চেষ্টা করি। এটি শুধু পরিবারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, আমাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ সকল নিকট সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং পুরো সমাজে এটি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি প্রায় পরিত্যক্ত বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের গলিত মরদেহ উদ্ধার হবার এ বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে।

কখনও কখনও এই যোগাযোগ একটি সাধারণ ‘হাই’ এবং ‘হ্যালো’-র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কেবল সেইসব প্রয়োজনীয় কথাবার্তা হয়, যা ছাড়া আমরা আমাদের জীবন চালাতে পারি না। এভাবে অনেক পরিবার হোস্টেলের মতো হয়ে গেছে, যেখানে বাবা-মা, সন্তানেরা আসে, খায়, ঘুমায় এবং তারপর আবার নিজেদের কাজের জন্য বেরিয়ে যায়। আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে সোশাল মিডিয়ায় কিছু লাইক, রিএকশন দেয়া ছাড়া, আর দীর্ঘমেয়াদে আনুষ্ঠানিকতা ও বাৎসরিক মিলনমেলা ছাড়া অনেকক্ষেত্রেই আর তেমন ইন্টারেকশন হচ্ছে না।

যদিও কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তথা ঝগড়া-বিবাদ ভুল বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে স্বল্প যোগাযোগ (LC) একটি সমাধান হিসেবে কাজ করে, তবে এটি প্রায়শই মানসিক বিপর্যয় এবং টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। আমাদের প্রায়শই এমন কাউকে প্রয়োজন হয় যার সাথে আমরা নিজেদের ভাবনাগুলো ভাগ করে নিতে পারি এবং যার কাছ থেকে পরামর্শ চাইতে পারি। পরামর্শ দেওয়া এবং নেওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে গুটিয়ের নেবার বিষয়ে লক্ষাধিক পোস্ট, যার মধ্যে “নিজের ক্ষমতা ফিরিয়ে নাও!” এবং “যোগাযোগহীনতাই আত্মসম্মান”-এর মতো বিভিন্ন উক্তি আমাদের ফিডে ঘুরাফিরা করতে থাকে, অনেকের তা শুনতেও ভালো লাগে, তবে এটি একটি ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত যে সন্তান ও আপনজন উদ্বেগজনক হারে তাদের বাবা-মা ও আপনজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

ক্যাথরিন ক্যাভালো, একজন আমেরিকান পরিবার ও দম্পতি মনোচিকিৎসক, যাঁর ২৫ বছরেরও বেশি ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতা রয়েছে, তিনি প্রায়শই পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার শিকার ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করেন। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম বা কোনো যোগাযোগ না থাকার প্রবণতা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে, এবং কিছু পরিসংখ্যান এই দাবিকে সমর্থন করে। সম্প্রতি ইউগভ (YouGov)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে ৩৮% আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্করা পরিবারের কোনো সদস্যের সাথে বিচ্ছিন্ন। বাংলাদেশে এ বিষয়ে আদৌ কোনো জরিপ আছে কিনা জানা নেই, তবে এ বাস্তবতা যে রয়েছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে তা পরিষ্কার।

এটা ঠিক যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে আপনজন দুর্ব্যবহার করে এবং সহিংস আচরণ প্রদর্শন করে। এ ধরনের ক্ষেত্রে, স্বল্প মেয়াদে যোগাযোগ কিছুটা কমিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অবশ্যই গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

তবে, অনেকক্ষেত্রে সন্তানেরা অভিযোগ করে যে তাদের অনেকের বাবা-মা প্রকৃত আবেগ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেন না। আন্তরিক অনুভূতি, সহানুভূতি এবং কোমলতারও অভাব থাকতে পারে। কিছু বাবা-মায়ের জন্য, প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে খাবার, পোশাক এবং কম্পিউটার, ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোনের মতো আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সরবরাহ করা। আবার অনেকের তাদের সন্তানের আদর্শিক সন্তান তৈরি স্পৃহা থেকে তারা সন্তানদের পড়াশুনাসহ বিভিন্ন পার্থিব ক্যাপাসিটি তৈরির একটি যান্ত্রিকতায় অভ্যস্ত করেই দায়িত্ব শেষ করেন। প্রায়শই তাদের সন্তানদের সাথে কথা বলার, তাদের সাথে বসার বা তাদের কথা শোনার সময় থাকে না। সহানুভূতিশীল পারিবারিক বন্ধন লালন করা ছাড়া, সবাই যেন বিভিন্ন কাজ শেষ করার জন্য সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটছে।

একইভাবে যারা বৃদ্ধ বাবা-মার সাথে থাকেন তারাও অনেকসময় তাদের ক্যারিয়ার, কাজের চাপ ও নিজস্ব সার্কেলে সময় দেবার পর তাদের মা-বাবার জন্য আর সময় খুঁজে পান না। তাদের সাথে কিছুটা সময় অতিবাহিত করা, তাদের নিয়ে কোথাও বেড়িয়ে আসার তাগিদ অনুভব করেন না। শুধুমাত্র তাদের সারভাইভাল তথা বেঁচে থাকার জন্য যা যা দরকার তা প্রদান করেই দায়মুক্তি খোঁজেন।

সুতরাং, যদিও সন্তান ও বাবা-মা একই বাড়িতে বাস করে, সেই চার দেয়ালের মধ্যে হয়তো কোনো প্রকৃত বন্ধন অবশিষ্ট থাকে না—থাকে কেবল শিথিলভাবে কানেকটেড কিছু ব্যক্তি, যারা শুধু খায়, ঘুমায় এবং ঘর ভাগাভাগি করে। এর বেশি কিছু নয়। আমরা আমাদের আপনজনদের সত্যিকার অর্থে বোঝার চেষ্টা করি না; আবার আমাদের আপনজনেরাও প্রায়শই আমাদের আবেগিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার প্রতি মনোযোগ দেন না।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক ড. সেথ মেয়ার্স মনে করেন যে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তারা প্রায়শই নিজেদের শৈশবে আবেগিক ও সামাজিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এর কারণ হতে পারে বাবা-মায়ের অবহেলা, কিংবা এমন কোনো সমস্যাসংকুল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা—যেখানে সদস্যদের মেজাজ-মর্জির মধ্যে তীব্র সংঘাত বিদ্যমান ছিল। আবার অনেক বাবা-মা-কেই এমন সন্তানের লালন-পালনে হিমশিম খেতে হয়, যার স্বভাব-চরিত্র বেশ কঠিন বা দুরন্ত প্রকৃতির। তাদের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পেছনে হয়তো এই বিষয়টিই কাজ করে থাকে।

পারিবারিক ভাঙনের পেছনে বহুবিধ কারণ দায়ী। পারিবারিক বিষয়াবলি পরিচালনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিযোগিতার ফলে সৃষ্ট অবিরাম ও পুনরাবৃত্ত কলহ-বিবাদ হলো এমনই একটি কারণ। কারো কারো মতে, সেকুলার-উদারনৈতিক মূল্যবোধগুলো বাবা ও মায়ের ভূমিকা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে ব্যর্থ হয়েছে; বরং উল্টো তাদের একে অপরের প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

চরম মাত্রার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ অর্থাৎ “আমি আমার নিজের জগৎ নিয়েই থাকি” এ ধরণের দৃষ্টিভংগির চর্চাও এই ভাঙনের পেছনে আরেকটি বড় কারণ; কারণ এই মানসিকতা পরিবারের অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস ও কাঠামোগত শৃঙ্খলকে উপেক্ষা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি সন্তানদের বাবা-মায়ের প্রতি বিদ্রোহী আচরণ করতে উৎসাহিত করতে পারে, যার ফলে তারা পরিবারের অভ্যন্তরে প্রচলিত ছোটখাটো নিয়মকানুন মেনে চলার ক্ষেত্রেও অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে, দায়িত্বশীলতার প্রতি তাদের তীব্র বিতৃষ্ণা কাজ করে।

এরই ফলস্বরূপ, পারিবারিক কলহ-বিবাদ সন্তানদের মনে উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর ফলে ঘরটি আর প্রশান্তি, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতার উৎস হিসেবে টিকে থাকে না; বরং তা ঘৃণা ও স্বার্থপরতায় আচ্ছন্ন এক ভীতিকর স্থানে পরিণত হয়। সম্পর্কের গতিপথ বদলে যায় এবং তা পারস্পরিক মতপার্থক্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে—যা কখনো কখনো বিবাহবিচ্ছেদ ও আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো দূরত্ব সৃষ্টিকারী চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

ইসলামের দৃষ্টিতে, আমাদের ঘর বা গৃহ হলো আমাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এটি কোনো ‘ফাইভ-স্টার হোটেল’ নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু—এমন একটি স্থান যেখানে আমরা নির্দ্বিধায় নিজেদের প্রকৃত সত্তা নিয়ে বসবাস করতে পারি; যেখানে পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, পরিবারের সদস্যরা সর্বদা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ইসলাম এই অবস্থাকেই অভিহিত করে ‘সাকিনাহ’ (প্রশান্তি) হিসেবে। এটি কেবল একটি শ্রুতিমধুর শব্দই নয়, বরং এটি হলো সেই বিশেষ আবহ বা পরিবেশ—যা আল্লাহ চান আমাদের পরিবারে সর্বদা বিরাজমান থাকুক।

একটু ভেবে দেখুন: আপনার বাবা-মা কেবল আপনার পড়াশোনা বা ঘরের কাজকর্ম নিয়ে সারাক্ষণ বকাবকি করার জন্যই সেখানে উপস্থিত নেই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, পরিবারে তাদের সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে—যার মূল উদ্দেশ্য আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং আপনাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া বা পথপ্রদর্শন করা। আপনার বাবা? তিনি হলেন পরিবারের রক্ষাকর্তা; তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি পরিবারের সবার ভরণপোষণ জোগাতে এবং সবাইকে নিরাপদে রাখতে গিয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। আর আপনার মা? তিনি হলেন পরিবারের প্রাণকেন্দ্র; যিনি অকৃপণভাবে ভালোবাসা বিলিয়ে যান এবং মানুষ গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করে চলেন (বিষয়টি মোটেও সামান্য কিছু নয়, তাই না?)। আর আপনি? আপনিও তো এই পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। ইসলামের যে বিষয়টি সঠিক—যা বিশ্বের বাকি অংশ প্রায়শই উপেক্ষা করে—তা হলো: এই ভূমিকাগুলো ক্ষমতা বা প্রতিযোগিতার বিষয় নয়। আপনার বাবা-মা এমন কোনো ‘বস’ নন, যার বিরুদ্ধে আপনাকে বিদ্রোহ করতে হবে; বরং তাঁরাই আপনার অবলম্বন। আর আপনি কেবল ‘সন্তান’ নন—আপনিই ভবিষ্যৎ। আপনাকে যেভাবে গড়ে তোলা হয়—যেখানে ভালোবাসা ও সীমানার (নিয়ম-কানুনের) এক অপূর্ব সমন্বয় থাকে—তার মূল উদ্দেশ্যই হলো আপনাকে এমনভাবে শক্তিশালী করে তোলা, যাতে আপনি অহংকারী না হয়ে ওঠেন; এবং এমনভাবে দয়ালু করে তোলা, যাতে আপনি কারো দ্বারা সহজেই প্রভাবিত বা পদদলিত না হন।

আর হ্যাঁ, বাবা-মা কখনোই নিখুঁত হন না। কখনো কখনো তাঁরা বেশ কঠোর হন। কখনো কখনো তাঁদের আচরণ বেশ ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু ইসলাম এই প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দেয়: এটি বাবা-মাকে শিক্ষা দেয় যেন তাঁরা নিষ্ঠুর বা রূঢ় না হন; কারণ এমন আচরণের ফলে সন্তানরা বড় হয়ে কেবল তিক্তমনা ও ক্ষুব্ধই হয়ে ওঠে। আবার এটি তাঁদের এ ব্যাপারেও সতর্ক করে যে, সন্তানকে যেন অতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে একেবারে নষ্ট করে না ফেলা হয়; কারণ এমন মানুষ হতে কেউ-ই চায় না, যে কি না বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিগুলো সামলাতেই অক্ষম। মূল লক্ষ্য হলো ভারসাম্য বজায় রাখা।

পরিবার কোনো পাবলিক ক্যাফে বা রেস্টুরেন্ট না, যেখানে একদল মানুষ, যারা কেবল একটি ওয়াই-ফাই সংযোগ ভাগ করে নিচ্ছে, যেখানে সবাই যার যার মতো আলাদা আলাদা স্ক্রিনে চোখ আটকে রেখে নিজেদের কাজে ব্যস্ত। একটি প্রকৃত পরিবার হলো একটি দল। আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন, তোমরা একে অপরের সাথে সৎকর্মে প্রতিযোগিতা করো, একে অপরের দুর্বলতাগুলো ঢেকে রাখো এবং একে অপরকে আল্লাহর কথা, আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দাও—কেন আল্লাহই তোমাদের অস্তিত্বে এনেছেন এবং তোমাদের সূচনা করেছে এবং পরিবারে একত্রিত করেছেন।

তাই যখন আমাদের মা পঞ্চম বারের মতো আমাদের খোঁজখবর নেন, কিংবা আমার আপনার বাবা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেই “বিশেষ আলোচনাটি” শুরু করেন—তখন হয়তো সেটা কেবলই বিরক্তিকর বকাবকি নয়। হয়তো তাঁরা ঠিক সেটাই করছেন, যা করার নির্দেশ আল্লাহ তাঁদের দিয়েছেন: তোমাকে এমন একজন দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা—এমন একজন, যার অন্তরে প্রকৃত মমতা রয়েছে; এমন একজন, যে বড় হয়ে নিজেই বাস্তব জীবনে অর্থবহ কিছু গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এটাই হলো সেই কাঙ্ক্ষিত রূপকল্প। এমন একটি পরিবার, যার সদস্যদের সম্পর্ক কেবল রক্তের বন্ধনেই আবদ্ধ নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য দ্বারাও গাঁথা থাকবে। এটি এমন একটি দুর্গ হবে, যা আমাদের বাইরের কোলাহল ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে; যাতে আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এমন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি—যার অস্তিত্ব ও অবদান সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ—আল্লাহর কাছে, আমাদের সমাজের কাছে এবং সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, যাদের আমরা একদিন গড়ে তুলবো।

এভাবেই গড়ে উঠতে পারে একটি শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন—যা লালন ও পুষ্ট করবে একটি শক্তিশালী মুসলিম উম্মাহকে। আল্লাহ আমাদের জন্য তা সহজ করে দিন।

ঈষৎ পরিমার্জিত

Leave a Reply