মদীনা নামক যে ভূমিকে রাসূল (সা) বসবাস করবার জন্য বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে তিনি (সা) ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই ইসলামী হুকুম-আহকামও বাস্তবায়ন করেছিলেন। বস্তুতঃ মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরই আল্লাহর তরফ থেকে হুকুম-আহকামের আয়াত নাযিল হতে থাকে। রাসূল (সা) ইসলামী রাষ্ট্রের মূলভিত্তি এবং মদীনার সমাজকে ইসলামী আকীদাহ ও আইন-কানুনের ভিত্তিতেই শক্তিশালী করেছিলেন এবং মদীনার মুসলিমদের (মুহাজির ও আনসার) মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এরপর শরীয়াহর মাধ্যমে ইসলামী শাসনব্যবস্থা মদীনার মুসলিমদের জীবনে বাস্তবিক ভাবে অনুপ্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে ইসলামী শাসনব্যবস্থার আলোকে গঠিত এই সমাজই সমস্ত পৃথিবীতে ইসলামের বার্তা বহনের গুরুদায়িত্ব পালন করে। The number of Muslims substantially increased and they became a force to be reckoned with, individuals and groups alike embraced Islam every other day, amongst them Jews and others.
রাসূল (সা) মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের শক্তিসামর্থ্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হবার সাথে সাথে সমস্ত আরব ব-দ্বীপে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দেবার
ব্যাপারে মনোযোগী হলেন। একই সাথে তিনি (সা) এটাও বুঝতে পারছিলেন যে, মক্কার কুরাইশরা ইসলামের দাওয়াতী কার্যক্রমের পথে যে কঠিন বাঁধা সৃষ্টি করে রেখেছে সে কঠিনতম বাঁধা অতিক্রম করতে শক্তিপ্রয়োগ অপরিহার্য। কারণ, কুরাইশদের এই প্রবল প্রতিরোধের মুখে শুধুমাত্র বুদ্ধিবৃত্তিক পন্থায় দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করা আর অরণ্যে রোদন করা ছিলো আসলে একই কথা।
রাসূল (সা) যখন মক্কায় তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন তখন তাঁর পক্ষে এ কঠিনতম বাধাঁ অতিক্রম করা ছিলো অসম্ভব। কারণ, তখন না ছিলো ইসলাম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আর না ছিলো বাঁধা অপসারণে প্রয়োজনীয় বস্তুগত শক্তি অর্জনের কোন সুযোগ। কিন্তু, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবার সাথে সাথেই রাসূল (সা) বস্তুগত এ শক্তি অর্জনের সুযোগ ও ক্ষমতার অধিকারী হন। বাঁধা অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার সুযোগও তাঁর হাতে এসে যায়। এরপর তিনি (সা) যা করেন, তা হলো মূলতঃ তাঁর সৈন্যবাহিনীকে মুখোমুখি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা এবং দাওয়াতী কার্যক্রম প্রচার প্রসারে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরী করা। এ কারণেই তিনি (সা) তাঁর দলবলকে বিভিন্ন আরব ভূ-খন্ডের বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত অভিযানে পাঠান, যার মধ্যে কোন কোন তিনি নিজেও অংশগ্রহন করেছিলেন। এ সমস্ত অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিলো পৌত্তলিকদের মুসলিমদের শক্তিসামর্থ প্রদশর্ন করার মাধ্যমে পৌত্তলিকদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা। এ অভিযানগুলোর মধ্যে সর্বশেষ অভিযান ছিলো ’আব্দুল্লাহ ইবন জাহশের অভিযান, মূলতঃ এটা ছিলো বদরের যুদ্ধের সূচনা পর্ব।
হিজরী দ্বিতীয় সালের রজব মাসে মুহাম্মদ (সা) আব্দুল্লাহ ইবন জাহশের নেতৃত্বে মুহাজিরদের একটি দলকে অভিযানে পাঠান। তিনি (সা) আব্দুল্লাহ ইবন জাহশকে তাঁর লিখিত একটি চিঠি দেন এবং আদেশ দেন যেন দুই দিনের পথ অতিক্রম করার পূর্বে এটি খোলা না হয়। চিঠি খোলার পর তিনি (সা) আব্দুল্লাহ ইবন জাহশকে তাঁর লিখিত নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করার আদেশ দেন এবং এ আদেশ পালনে তার দলের অন্যান্যদের জোর জবরদস্তি করতে নিষেধ করেন। দুইদিন যাত্রার পর ’আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ চিঠি খুলে দেখলেন সেখানে লেখা আছে, “আমার এই চিঠি পড়ার পর তোমরা মক্কা ও তা’য়িফের মধ্যবর্তী স্থান নাখলাহ পর্যন্ত যাত্রা করবে এবং কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার জন্য ওৎ থাকবে এবং তারা যা যা কিছু বহন করছে সে সম্পর্কে আমাদের অবহিত করবে”। চিঠি পড়ার পর তিনি চিঠির বিষয়বস্তু ও রাসূল (সা) এর নির্দেশ সম্পর্কে তার সঙ্গীদের অবহিত করেন এবং একই সাথে এটাও জানিয়ে দেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা) এ দায়িত্ব পালনে কাউকে জোর জবরদস্তি করতে নিষেধ করেছেন।
দলের সকলেই অর্পিত দায়িত্ব পালনে সম্মতি প্রকাশ করে এবং গন্তব্যের দিকে দলবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস আল জুহরি এবং উতবাহ ইবন গাজওয়ান তাদের হারানো উট খুঁজতে গিয়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, তারা দু’জন কুরাইশদের হাতে বন্দী হয়। এদিকে, আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ নাখলাহ নামক স্থানে পৌঁছে রাসূল (সা) এর নির্দেশ অনুসারে কুরাইশদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এবং একপর্যায়ে বাণিজ্য সামগ্রী ভর্তি কুরাইশদের একটি ক্যারাভান তার নজরে আসে। আব্দুল্লাহ ইবন জাহশ কি করবে সেটা নির্ধারণ করার জন্য তার সঙ্গী সাথীদের সাথে পরামর্শ করতে থাকে। কারণ, সেদিন ছিলো রজব মাসের শেষ দিন আর রজব মাস ছিলো যুদ্ধ করার জন্য নিষিদ্ধ মাস। তারা ভাবতে থাকে, যদি তারা কাফেলাকে আক্রমণ করে তবে নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করা হবে অথচ আল্লাহর রাসূল (সা) তাদের এ ব্যাপারে কোন নির্দেশ দেননি। তারা একে অপরকে বলতে থাকে, “আল্লাহর কসম, তোমরা যদি আজ রাতে তাদের ছেড়ে দাও তবে তারা পবিত্র এলাকায় প্রবেশ করবে এবং তোমাদের আক্রমণ থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে। আর, যদি তোমরা তাদের হত্যা করো তবে, তোমরা তাদের নিষিদ্ধ মাসে হত্যা করবে”। প্রথমদিকে তারা আক্রমণ করার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্থ এবং ভীত থাকলেও পরবর্তীতে তারা শত্রুপক্ষকে আক্রমণ করার জন্য একে অন্যকে উৎসাহিত করে এবং আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিমদের মধ্য হতে একজন বাণিজ্য কাফেলার নেতা ’আমর ইবন হাদরামিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে এবং তাকে হত্যা করে। শেষ পর্যন্ত তারা কাফেলার দু’জনকে বন্দী করে এবং সমস্ত বাণিজ্য সামগ্রী নিয়ে তারা মদীনায় ফিরে আসে।
মদীনায় প্রত্যাবর্তন করার পর রাসূল (সা) তাদের বলেন, “আমি তো তোমাদের নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করার কোন নির্দেশ দেইনি”। অতঃপর, তিনি (সা) বন্দী দুজনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন বা যুদ্ধলব্ধ মালামাল থেকে কোনকিছু নিতে অস্বীকার করেন। এটাই ছিলো আব্দুল্লাহ ইবন জাহশের নেতৃত্বে অভিযানের সর্বশেষ ফলাফল। যদিও, আল্লাহর রাসূল (সা) এ দলটিকে কুরাইশদের উপর নজরদারি করার জন্য পাঠিয়েছিলেন কিন্তু, শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ, হত্যাকান্ড, শত্রুপক্ষকে যুদ্ধবন্দী হিসাবে মদীনায় নিয়ে আসা এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ গণীমতের মাল হিসাবে নিয়ে আসা পর্যন্ত গড়ায়। সুতরাং, এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়াহর হুকুম কি হতে পারে?
বস্তুতঃ এ বিষয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের জন্যই রাসূল (সা) অপেক্ষা করতে থাকেন এবং এ কারণেই তিনি (সা) যুদ্ধবন্দী ও প্রাপ্ত মালামালের ব্যাপারে কোনরকম সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিরত থাকেন। অপরদিকে, কুরাইশরা এ ঘটনাকে ইসলাম ও মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে অপপ্রচার করার মোক্ষম সুযোগ হিসাবে লুফে নেয়। তারা সমস্ত আরব গোত্রগুলোর মধ্যে প্রচার করতে থাকে যে, মুহাম্মদ (সা) ও সঙ্গীরা নিষিদ্ধ মাসের পবিত্রতা নষ্ট করেছে, তারা পবিত্র মাসে রক্তপাত করেছে, সম্পদ লুট করেছে এবং কুরাইশদের বন্দী করেছে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মক্কায় অবস্থিত মুসলিম ও পৌত্তলিক কুরাইশদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। মক্কার মুসলিমরা তাদের মদীনার মুসলিম ভাইদের এ বলে রক্ষা করার চেষ্টা করে যে, মুসলিমরা রজব মাসে নয় বরং শাবান মাসে কাফেলা আক্রমণ করেছে। কিন্তু, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারনা দমনে তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অপরদিকে, ইহুদীরাও এ সুযোগের সদ্বব্যবহার করতে থাকে এবং তারা আব্দুল্লাহ ইবন জাহশের কাজের ব্যাপক সমালোচনা ও তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে শুরু করে। পৌত্তলিক ও ইহুদীদের মিলিত এ অপপ্রচারে মুসলিমরা মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হয়। আর আল্লাহর রাসূল (সা) নীরব থেকে এ ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে, আল্লাহ সুবহানুওয়াতায়ালা এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সুরা বাকারার কয়েকটি আয়াত নাজিল করেন,
“সম্মানিত মাস সম্পর্কে তোমার কাছে (তারা) জিজ্ঞেস করে যে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? বলে দাও, এতে যুদ্ধ করা ভীষণ বড় পাপ। আর আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং কুফরী করা, মসজিদে হারামের পথে বাঁধা দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদের বহিস্কার করা, আল্লাহর নিকট তার থেকেও বড় পাপ। আর ফিতনা সৃষ্টি করা নরহত্যা অপেক্ষাও মহাপাপ। বস্তুতঃ তারা তো সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে, যাতে করে তোমাদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে, যদি তা সম্ভব হয়”। [সুরা বাকারাহঃ ২১৭]
এই আয়াতটি নাজিল হবার পর মুসলিমরা আনন্দে উল্লাসিত হয়ে উঠে এবং রাসূল (সা) তারপর যুদ্ধলব্ধ মালামাল মুসলিমদের মাঝে বিতরণ করে দেন এবং সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস আল জুহরী এবং উতবাহ ইবন গাজওয়ান এর মুক্তির বিনিময়ে কুরাইশ যুদ্ধবন্দীদের মুক্ত করে দেন। বস্তুতঃ কুরআনের এই আয়াতটি কুরাইশদের ইসলামের বিরুদ্ধে সমস্ত অপপ্রচারকে একনিমিষে স্তব্ধ করে দেয়। পবিত্র মাসে যুদ্ধের ব্যাপারে এ আয়াতটি কুরাইশদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে এবং একই সাথে এটাও ঘোষণা করে যে, পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা পাপ কিন্তু, আল্লাহর দৃষ্টিতে মানুষকে মসজিদুল হারাম থেকে ফিরিয়ে দেয়া এবং সেখানকার অধিবাসীদের বহিস্কার করা, পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা ও হত্যা করা হতেও গুরুতর পাপ।
দ্বীন ইসলাম গ্রহন করার কারণে মুসলিমদের উপর কুরাইশদের নির্মম অত্যাচার ও চরম নির্যাতনমূলক আচরন আল্লাহর দৃষ্টিতে ছিলো পবিত্র মাস কিংবা অন্য কোন মাসে যুদ্ধ ও হত্যা অপেক্ষাও গুরুতর ব্যাপার । বস্তুতঃ মক্কায় অবস্থান কালে কুরাইশরা মুসলিমদেরকে দ্বীন ইসলাম থেকে ফেরানোর জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলো। এ অবস্থায় মুসলিমদের কুরাইশদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া ব্যতীত আর কোন পথই খোলা ছিলো না। যদি তা হারাম মাসে হয় তবুও। কুরাইশরাই বস্তুতঃ ইসলামী দাওয়াতের পথে চুড়ান্ত রকমের বাঁধা সৃষ্টি করেছিলো, তারা আরবের জনসাধারনকে ইসলাম গ্রহন করা থেকে বিরত রেখেছিলো, নিজেরা জেনেশুনে আল্লাহকে অস্বীকার করেছিলো, মসজিদুল হারামের পবিত্র এলাকা থেকে সেখানকার অধিবাসীদের বহিস্কার করেছিলো এবং সর্বোপরি ইসলাম গ্রহনের জন্য মুসলিমের উপর প্রচন্ড নির্যাতন চালিয়েছিলো। নিষিদ্ধ মাস কিংবা অন্য যে কোন মাসে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাই ছিলো তাদের কর্মফলের উপযুক্ত প্রতিদান। সুতরাং, ’আব্দুলাহ ইবন জাহশ পবিত্র মাসে কুরাইশদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, তা তাকে বা কোন মুসলিমকেই আসলে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারেনি।
আর এভাবেই, আব্দুল্লাহ ইবন জাহশের নেতৃত্বে মুসলিমদের এ অভিযান হয়ে গেল ইসলামের ইতিহাসের একটি মাইল ফলক। এ ঘটনাই মূলতঃ ইসলামী দাওয়াতী কার্যক্রম প্রচার-প্রসারে গৃহীত পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তনের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হয়ে থাকলো। এ অভিযানে ওয়াকিদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-তামিমি তীর ছুঁড়ে কুরাইশ কাফেলার সর্দারকে হত্যা করে এবং এটাই ছিলো আল্লাহর পথে কোন মুসলিমের হাতে প্রথম রক্তপাত। জিহাদের আয়াত নাজিলের পূর্ব পর্যন্ত পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধই থাকে। যদিও এ ঘটনার পর এ ব্যাপারে হুকুমটি পরিবতির্ত যায়। বস্তুতঃ উপরোক্ত আয়াতটির মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার উপর থেকে পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।






